বিডিএস নিউজ ডেস্ক | ০৩ মে ২০২৬
ঢাকা/ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের শুরুতে বড় গলায় বলেছিলেন, “আমরা ইতিমধ্যে জিতে গেছি।” কিন্তু আজ যুদ্ধের ৬৫তম দিনে এসে দেখা যাচ্ছে, সেই ‘নিশ্চিত বিজয়’ আসলে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তাক্ত চোরাবালিতে পরিণত হয়েছে। ইরান ও লেবানন আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, আর তার আগুনের আঁচ লেগেছে প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর (যেমন: HRANA) তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩,৬০০ ছাড়িয়েছে।
বেসামরিক বলি: নিহতদের মধ্যে অন্তত ১,৭০১ জন সাধারণ নাগরিক, যাদের মধ্যে ২৫৪ জনই শিশু। ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকির প্রভাব দেখা যাচ্ছে তেহরানের নীলুফার স্কোয়ার থেকে শুরু করে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে।
লেবানন ফ্রন্ট: হিজবুল্লাহর সাথে ইসরাইলি বাহিনীর লড়াইতে দক্ষিণ লেবানন আজ জনশূন্য। প্রায় ২,৫০০ লেবানিজ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত।
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্ব তেল সরবরাহের ২০% বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তেলের দাম: ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার স্পর্শ করেছে। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৩.৩% ছাড়িয়েছে এবং গ্যাসোলিন বা পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
খাদ্য সংকট: জিসিসি (উপসাগরীয়) দেশগুলো তাদের ৮০% ক্যালরি আমদানির জন্য এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে সেখানে খাবারের দাম ৪০% থেকে ১২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প: জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধসে ৩৭ শতাংশে নেমেছে। যুদ্ধের উচ্চ মূল্য এবং ব্যর্থ বিজয়োল্লাস তার আসন্ন নির্বাচনকে সংকটে ফেলেছে।
ইউক্রেন ও উপসাগরীয় দেশ: আমেরিকার সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন ইরানে থাকায় ইউক্রেন তার প্রয়োজনীয় মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম পাচ্ছে না। অন্যদিকে কাতার ও কুয়েতের তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লোকসান গুনছে।
এত ধ্বংসলীলার মাঝেও কিছু পক্ষ অবিশ্বাস্য মুনাফা অর্জন করছে:
তেল কোম্পানি ও রাশিয়া: তেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে রাশিয়ার আয় দ্বিগুণ হয়েছে। অক্সফাম (Oxfam) এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ৬টি তেল কোম্পানি ২০২৬ সালে প্রতি সেকেন্ডে ২,৯৬৭ ডলার বা বছরে মোট ৯৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা লুটবে।
চীন: বেইজিং নিজেদের তেলের রিজার্ভ ব্যবহার করে স্থিতিশীল রয়েছে এবং কৌশলে নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে জাহির করছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি: তেলের বিকল্প হিসেবে সৌর ও বায়ু শক্তিতে বিনিয়োগ কয়েক গুণ বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির দাপট কমিয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের দুই মাস আগের সেই ‘নিশ্চিত বিজয়’ এখন কেবল আমেরিকার ইতিহাসের এক বড় কৌশলগত ভুল নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য এক মরণফাঁদ। ইরান যদি দ্রুত আত্মসমর্পণ না করে, তবে এই যুদ্ধ বিশ্বকে ১৯৩০-এর দশকের মতো এক মহামন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র ও গবেষণা সূত্র (Source List):
মানবিক উপাত্ত: ইউনিসেফ (UNICEF) ও HRANA প্রকাশিত ক্যাজুয়ালটি রিপোর্ট, এপ্রিল-মে ২০২৬।
অর্থনৈতিক তথ্য: আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এবং আইএমএফ (IMF) বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি রিপোর্ট।
করপোরেট রিপোর্ট: অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল (Oxfam) - 'Oil Giants Profit from War', ২৭ এপ্রিল ২০২৬।
নিরাপত্তা বিশ্লেষণ: চ্যাথাম হাউস (Chatham House) এবং টাইমস অব ইন্ডিয়া - ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও যুদ্ধ কৌশল বিশ্লেষণ।
নিবন্ধ: দ্য জাপান টাইমস - ‘Iran War is a Renewable Energy Wake-up Call’, এপ্রিল ২০২৬।
বিশেষ বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |